
নামের আমি, নামের তুমি, নাম দিয়ে যায় চেনা। চলন্ত বাস থেকে চরম দক্ষতার সঙ্গে অর্ধেক ঝুলে থাকা বাসের কন্ডাক্টর মশাই যখন স্বরবিকৃত করে হাঁক দেন- “এ এ এ এ…উল্টোডাঙা, শোভাবাজার, হাতিবাগান, শ্যামবাজার, ধর্মতলা, পার্কস্ট্রিট, এসপ্ল্যানেড…” আমাদের চোখের সামনে স্লাইড শো-র মতো ভেসে ওঠে শহর কলকাতার অতি পরিচিত কিছু ছবি। কলকাতা মহানগরীর বহু জায়গার নাম জানা থাকলেও সেই নামের উৎস কিন্তু আজও অনেকের কাছেই অজানা। মজার ব্যাপার হল কলকাতার বিভিন্ন জায়গার নামকরণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানাস্বাদের নানারকম গল্প। অলি,গলি থেকে শহরতলি, রাজপথ হোক বা পাড়া, শহর কলকাতার নামকরণের সবগল্পই একেবারে মনকাড়া।
সময় স্রোতের বিপরীতে হাঁটলে দেখা যায় যে কোনো জায়গার নামকরণের নেপথ্যে থাকে সেই জায়গার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অতীত। নামকরণের ইতিহাসে মূল কারণ হিসাবে কখনও উঠে এসেছে কোনো চোখে পড়ার মতো স্থাপত্য বা নিদর্শন, কখনও নামকরণ করা হয়েছে বিখ্যাত কোনো ব্যক্তির নামে, কখনও আবার নাম জড়িয়ে গেছে অতীতের কোনো বিশিষ্ট ঘটনার সঙ্গে। মহানগরী কলকাতাও এর ব্যতিক্রম নয়। খোদ কলকাতার নামকরণ নিয়েই আছে ভিন্ন ঐতিহাসিক ও কলকাতাবিদদের ভিন্ন মতবাদ।
খ্রিস্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীর শেষের দিকে ব্রিটিশ ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসকদের হাত ধরে সুতানুটি গোবিন্দপুর আর ডিহি কলকাতা নিয়ে কলিকাতার নগরায়ণ হলেও হুগলি নদীর তীরবর্তী ডিহি কলিকাতা গ্রামের উল্লেখ আছে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একাধিক গ্রন্থে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বিপ্রদাস পিপলাইয়ের মনসাবিজয় কাব্য (১৪৯৫ খ্রিস্টাব্দ), কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর চণ্ডীমঙ্গল (আনুমানিক ১৫৯৪ -১৬০৬ ক্রিস্টাব্দ), কৃষ্ণরাম দাসের কালিকামঙ্গল (১৬৭৬ ক্রিস্টাব্দ ), সৈয়দ আলাওলের পদ্মাবতী (১৬৪৫ -৫২ ক্রিস্টাব্দ) ইত্যাদি। আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরি (১৫৯০ ক্রিস্টাব্দ) গ্রন্থেও “কলিকাতা” গ্রামটির উল্লেখ রয়েছে। কলকাতার নাম যে কলিকাতা থেকে এসেছে সে বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশই নেই, এখন কথা হল কলিকাতার নাম কলিকাতা হল কেন ?
অনেকের মতে সতীপীঠ কালীঘাট এর নামানুসারেই সম্ভবত কলিকাতা নামকরন হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেন বাংলা শব্দ ‘কিলকিলা’ অর্থাৎ চ্যাপ্টা ভূখন্ড কথাটি থেকে কলিকাতা নামের উৎপত্তি। কেউ আবার বলেন কলিকাতা নামটি ‘খাল’ ও ‘কাটা’ শব্দদুটি থেকে উৎপন্ন হয়ে থাকতে পারে। তবে বেশির ভাগ ঐতিহাসিকের মতে কলিকাতার নামকরণের সঙ্গে কলিচুন ও কলিচুনের জন্য কাতা অর্থাৎ শামুকপোড়া এই দুটির নিবিড় সম্পর্ক আছে। ডিহি কলকাতার ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে ছিল চুনারীদেরব্যবসা ও বসবাস। গঙ্গানদীর পার্শবর্তী এলাকায় শামুকের আড়ৎ ও কলিচুন তৈরির কারখানা ছিল, এই অঞ্চলে সেই সময় কলিচুন প্রচুর পরিমানে উৎপাদন করা হত। সেই কলিচুনের ‘কলি’ আর শামুখ পোড়ার ‘কাতা’ এর থেকেই এই গ্রামের নাম হয়েছিল কলিকাতা ।
শুধু তাই নয়, কলকাতার সঙ্গে যে কলিচুনের সম্পর্ক আছে তার প্রমান পাওয়া যায় ১৮৫১ সালে FW Simms সাহেরবের প্রকাশিত ‘রিপোর্টস ও দা সার্ভে অফ ক্যালকাটা’ থেকে, সেখানে উল্লেখ আছে কলকাতার উত্তর ব্লকের চুনারপাড়া, চুনাগলি ও চুনাপুকুর লেন। এই তিনটি জায়গার নামকরণ হয়েছে চুনারীদের নাম থেকেই।
কলকাতার নাম কিন্তু আবার মাঝে পাল্টে আলিনগর হয়ে যায়। বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলা ১৭৫৬ সালে কলকাতা আক্রমণ করে ইংরেজদের হারিয়ে কলকাতার দখল নিয়ে তার দাদু আলীবর্দী খাঁর নাম অনুসারে কলিকাতার নাম পাল্টে আলিনগর করে দেন। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে বাংলার নবাব সিরাজকে হারিয়ে ইংরাজদের জয়লাভের পর কলকাতা তার পুরোনো নাম পুনরায় ফিরে পেয়েছিল।
গোবিন্দ দত্তের গোবিন্দপুর
গোবিন্দপুর গ্রামের নামকরণ প্রসঙ্গে উঠে এসেছে গোবিন্দ দত্ত নামে এক ব্যক্তির নাম। তিনি নাকি এই অঞ্চলের উপর দিয়ে এক সময় তীর্থ যাত্রায় যাচ্ছিলেন, সেই সময় উনি মা কালির স্বপ্নাদেশ পান। সেই স্বপ্নাদেশ অনুসারেই নদীর তীরবর্তী পরিত্যক্ত জলা জায়গা খুঁড়ে সেখান থেকে নাকি অনেক গুপ্তধন পান। সেই বিপুল ধন সম্পদ নিয়ে গোবিন্দ দত্ত এই অস্বাস্থ্যকর অঞ্চলেই বসবাস শুরু করে দেন, ধীরে ধীরে লোকজনের বসতি গড়ে ওঠে এবং গোবিন্দ দত্তের নামানুসারেই গ্রামের নামকরণ হয় গোবিন্দপুর।
সুতোয় বাঁধা সুতানুটি
অপরদিকে সুতানুটিতে ছিল তাঁতিদের বসবাস। সুতোর নুটি বা গোলার আড়ৎ থেকে এই গ্রামের নামকরণ হয় সুতানুটি। উত্তর কলকাতার বাগবাজার, শ্যামবাজার ও তার আশেপাশের এলাকা এই সুতানুটি গ্রামের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৬৯০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসক জোব চার্নক এই গ্রামে এসে পাকাপাকি ভাবে বসবাস করতে শুরু করেছিলেন। সুতানুটি তৎকালীন সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল।
বাগবাজারের বাগানবাহার
পুরোনো কলকাতার ইতিহাস বলছে বাগবাজার সুতানুটি অঞ্চলেরই অংশ ছিল। সুতানুটি বাণিজ্যকেন্দ্র হিসাবে প্রসিদ্ধ থাকায় এই এলাকায় হাট-বাজার এর রমরমা ছিলই। তবে বাগবাজার নামের উৎপত্তি নাকি ‘পেরিন সাহেবের বাগান’ থেকে। এককালে পেরিন সাহেবের বাগান বাড়ি ছিল খুবই মনোরম এবং এই বাগানের বাহার বিস্তৃত ছিল হুগলি নদীর কিনার পর্যন্ত। এই বাগানবাড়ি একসময় সাহেব মেমদের কাছে আমোদ প্রমোদের কেন্দ্র ছিল। তাই পেরিন সাহেবের সাহেবের ‘বাগ’ এবং পার্শবর্তী এলাকার ‘বাজার’ এই দুই মিলে ‘বাগবাজার’ নামটির উৎপত্তি।
যদিও সুকুমার সেনের মতামত অনুযায়ী বাগবাজার নামটির উৎপত্তি সম্ভবত ‘বাঁকবাজার’ থেকে, গঙ্গার ওই বাঁকের মুখে নাকি সুতানুটির বিখ্যাত বাজার বসত।
শ্যামরায়ের শ্যামবাজার
বাগবাজারের মতো শ্যামবাজার অঞ্চলটিও সুতানুটিরই অংশ ছিল তাই এখানেও একটি বিখ্যাত হাট ও বাজারের অস্তিত্বের কথা শোনা যায়। হুগলির আদিসপ্তগ্রাম থেকে এসে সুতানুটির হাটে ব্যবসা-বাণিজ্য করে বেশ প্রসিদ্ধ হয়েছে বসাক ও শেঠরা। সুতানুটির বসাক পরিবারের একজন বিশিষ্ট ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন শোভারাম বসাক,তিনি তার পরিবারের কুলদেবতা শ্রীকৃষ্ণ শ্যামরায়ের নামানুসারে এই অঞ্চলটি শ্যামবাজার নামে পরিচিত হয়।
শোভাবাজারের সভা
সুতানুটির অন্তর্গত শোভাবাজার এর আদি নামে ছিলনা কোনো শোভা, বরং সে ছিল ‘পাবনা-বাসনা’ নামের একটি গ্রাম। শোভাবাজার নামকরণ নিয়েও আছে বিতর্ক। কেউ কেউ বলেন শোভাবাজারের নাম এসেছে সুতানুটির বিখ্যাত ব্যবসাদার শোভারাম বসাকের নাম থেকেই।
তবে এই মত কে গ্রহণ করেননি হরিসাধন মুখোপাধ্যায় ও সুকুমার সেন এর মত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সুকুমার সেনের মতে শোভাবাজারের সঠিক নাম সভাবাজার, আর এর উৎপত্তি রাজা নবকৃষ্ণের ‘রাজসভা’ থেকেই। হরিসাধন মুখোপাধ্যায়ের মতে রাজা নবকৃষ্ণ দেব এর মাতৃবিয়োগের পর আয়োজন করা হয়েছিল এক রাজকীয় ভোজসভার। সেই ভোজসভার থেকেই নাকি সুতানুটির ‘পাবনা-বাসনা’ গ্রামটি নাম বদলে হয়ে যায় ‘সভাবাজার’। কলকাতার বনেদিয়ানার এক অন্যন্য সাক্ষী শোভাবাজার। লর্ড ক্লাইভের উৎসাহে শুরু হওয়া শোভাবাজার রাজবাড়ীর দুর্গাপূজার আকর্ষণ হয়েছে কালজয়ী।
কুমোর এল কুমোরটুলি
নাম দিয়ে যায় চেনা, ঠিক তাই। কুমোরটুলি নামটি এসেছে কুমোরদের থেকেই। শোভাবাজার রাজবাড়ির বিখ্যাত দুর্গোৎসবের মৃন্ময়ী মাতৃমূর্তি তৈরির জন্য প্রথমদিকে কৃষ্ণনগর থেকে আনা হয়েছিল কয়েকজন প্রতিমাশিল্পী কুমোরকে। রাজবাড়ীর কাছেই তাদের বসবাসের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল, সেই থেকেই এই জায়গাটি কুমোরটুলি নামে পরিচিত। কুমোরটুলির ট্র্যাডিশন কিন্তু এখনও বজায় আছে।
হাতিবাগানে হাতিরদল
হাতিবাগান নামকরণের ইতিহাস হয়তো অনেকেরই জানা। নবাব সিরাজদৌল্লার কলকাতা আক্রমণের সময় নাকি নবাবের হাতির ছাউনি এখানে পড়েছিল। এখানেই একটি উদ্যানে হাতিদের রাখা হয়েছিল, সেই হস্তীউদ্যান সরলীকৃত হয়ে হাতিবাগান নাম নিয়েছে। আবার অন্য একটি মত অনুসারে রাজা নবকৃষ্ণদেবের হাতিশালা ছিল এই জায়গায়, তাই তা হাতিবাগান অঞ্চল।
লালদীঘির লাল জলছবি
লালদিঘির অস্তিত্বের প্রমাণ মেলে ডিহি কলিকাতা গ্রামে। লালদিঘির খুব কাছেই ছিল সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের একটি কাছারি ও কুলদেবতা শ্যামরায়ের মন্দির। অনেকেই বলেন শ্রীকৃষ্ণের দোলযাত্রা উপলক্ষে রং খেলার পর এই দিঘির জল নাকি লাল হয়ে উঠত বলে দিঘিটি লালদিঘি নামে পরিচিত হয়। সাবর্ণ রায়চৌধুরীর সেই কাছারিবাড়িটি পরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্রয় করে নেয়।
অবশ্য লালদিঘির নামকরণ নিয়ে আছে আরও দুটি কাহিনী। কেউ কেউ বলেন, এই দীঘির পার্শ্ববর্তী এলাকার ছিল ওল্ড মিশন চার্চ। এই চার্চের লাল রংটি ছায়া দিঘির জলে প্রতিবিম্বিত হত বলে দিঘিটি নাম হয় লালদিঘি। কেউ আবার বলেন এই দুটোর কোনোটাই নয়, লালচাঁদ বসাক নামে জনৈক ব্যক্তি এই দিঘিটি খনন করিয়েছিলেন। এই লালচাঁদের নামানুসারেই দিঘিটির নাম হয় লালদিঘি।
চিৎপুরের চিত্তেশ্বরী
হা রে রে রে রে রে ! প্রায় চারশো বছর আগের কথা, চিতু ডাকাত তখন জঙ্গলাকীর্ণ কাশীপুর এলাকার ত্রাস। কথিত আছে শক্তির পূজারী চিতে ডাকাত ভাগীরথী-হুগলী নদীতে ভেসে আসা এক বিশাল নিম গাছের কান্ড দিয়ে তৈরী করেছিলেন জয়চন্ডী চিত্তেশ্বরী মূর্তি। পরবর্তীকালে ১৬১০ সালে ‘আদি চিত্তেশ্বরী’ কালী মন্দিরটি তৈরী করে দেন গোবিন্দ ঘোষ নামে এক ব্যক্তি। চিত্তেশ্বরী দুর্গার নাম মাহাত্ম নিয়েই এই অঞ্চলের চিৎপুর নামে পরিচিত হয়। চিৎপুর রোড কলকাতার প্রাচীনতম পথ এবং এর অস্তিত্ব মোগল সম্রাটের আমল থেকেই আছে। মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্যসাহিত্যে চিৎপুরের উল্লেখ আছে-
ত্বরায় চলিল তরী তিলেক না রয়।
চিৎপুর সালিখা এড়াইয়া যায়।।
টেরিটি সাহেবের টেরিটি বাজার
প্রথম সিটি আর্কিটেক্ট টিরেট সাহেব এই চিৎপুরে অধিষ্ঠিত অধুনা টেরিটি বাজার অঞ্চলে বাড়ি বানিয়ে বসবাস শুরু করেছিলেন। তার নাম থেকেই বাজারটির নাম হয়ে যায় টেরিটি বাজার।
জোড়াসাঁকোর সাঁকো
জোড়াসাঁকো বললেই প্রথমে ভেসে ওঠে ঠাকুরবাড়ির ছবি, এর নামকরণের ইতিহাসেও জড়িয়ে আছে ঠাকুরবাড়ির নাম। কিন্তু সেই ইতিহাসও কম বিতর্কিত নয়। প্রায় আড়াইশো বছর আগে অধুনা জোড়াসাঁকোর অঞ্চলটি জুড়ে ছিল মৎসজীবীদের বাস, এই এলাকাটি মেছুয়াবাজার নামে পরিচিত ছিল। শাঁখারিপাড়া আর শাঁখারিটোলার মধ্যবর্তী এই অঞ্চলটি একসময় ছিল শাঁখারীদের ব্যবসাক্ষেত্র। ‘জোড়া’ আর ‘সাঁকো’ এই নামের উৎস হিসাবে অনেকেই মত দিয়েছেন জোড়াশাঁখের পক্ষে। তবে এই নামের পিছনে উঠে এসেছে আরো একটি চমৎকার মতবাদ, ঠাকুরবাড়ির পাঁচ আর ছ’নাম্বার বাড়ির সংযোগেস্থলে ছিল জোড়া সাঁকো যা ব্যবহৃত হত একবাড়ি থেকে অন্য বাড়ি যাওয়ার জন্য। অনেকেই মনে করেই এটি জোড়াসাঁকোর নামকরণের কারণ হতে পারে।
শাঁখের নামে শাঁখারিটোলা
শঙ্খ বা শাঁখার কারিগর ও ব্যবসায়ী শাঁখারিদের নাম অনুসারেই এই এলাকার শাঁখারিটোলা নাম।
বহুরানীর বৌবাজার
‘বউবাজার’ নামকরণের ইতিহাস নিয়েও রয়েছে দুটি ভিন্ন মত। একদন বলেন বিশ্বনাথ মতিলাল নামে এক মাড়োয়ারি ব্যবসায়ী তাঁর বাঙালি পুত্রবধূকে একটি বাজার এর মালিকানা দানপত্র করেন। সেই বহুরানীর বাজারটিই প্রথমে ‘বহুবাজার’ এবং পরে বাঙালিয়ানার রঙে ‘বউবাজার’ নামে পরিচিত হয়।অন্যমত বলে, এই অঞ্চলে নাকি অনেক বাজার ছিল এবং সেই বাজারে বহু অর্থাৎ নানারকমের জিনিসপত্র বিক্রি হত। সেই থেকেই এটি ‘বহুবাজার’ ও পরে ‘বউবাজার’ নাম নেয়।
বিবাদী বাগ থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত এই রাস্তাটির নাম ছিল বউবাজার স্ট্রিট। পরে যদিও বউবাজার স্ট্রিটের নতুন নামকরণ করা হয় স্বাধীনতা সংগ্রামী বিপিনবিহারী গাঙ্গুলির নামানুসারে যা অধুনা বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিট। যদিও ওই এলাকার নাম এখনও বউবাজার রয়ে গেছে।
টলিসাহেবের টালিগঞ্জ
হলি, বলি, টলি ! টালিগঞ্জ হোক বা টলিপাড়া এই টলি নাম এসেছে মেজর উইলিয়াম টলির নামে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অনুমতি পেয়ে ১৭৭৬ সালে টলি সাহেব কলকাতা, অসম ও পূর্ববঙ্গের যোগসূত্রকারী একটি নালা খনন করেন ও নালার ধারে একটি গঞ্জ বা বাজার স্থাপন করেন। টলি সাহেবের নামেই প্রতিষ্ঠিত বাজারটি আজকের টালিগঞ্জ নামে পরিচিত হয়।
গরান কাঠের গরানহাটা
নৌকাবোঝাই গরান কাঠ, বিকতো এসে গরানহাট। গরানহাটা এলাকাটিতে তৎকালীন সময়ে গরানকাঠের ব্যবসা হতো তাই এই জায়গার নাম এর উৎপত্তি হয়েছে গরানকাঠের থেকেই ।
‘ঠন-ঠন’ করে ঠনঠনিয়া
শোনা যায় ঠনঠনিয়া এলাকায় কয়েকটি বাড়িতে লোহার কাজ হত বলে সেখান থেকে দিবারাত্র লোহা পেটানোর ধাতব ‘ঠন-ঠন’ শব্দ আসত। সেই ‘ঠন-ঠন’ শব্দের থেকেই নাম নিয়ে হল ঠনঠনিয়া। অন্য মত অনুসারে এই এলাকায় ডাকাত আক্রমণ সম্বন্ধে গ্রামবাসীকে সজাগ করার জন্য নিকটবর্তী মন্দিরের ঠন ঠন করে ঘন্টা বাজানো হত, সেহেতু এই এলাকার নাম ঠনঠনিয়া ।
হেঁতালের বনবাহারে এন্টালি
অনেকের মতে এন্টালি এলাকায় ইট ও টালির ব্যবসা ছিল, সেই ইট ও টালি মিলেএলাকার নাম হয়েছিল ডিহি ইটালি। আগে এই এলাকায় ছিল হেঁতাল গাছের বনবাহার, সেই থেকেই নাকি পূর্বের ডিহি ইটালি হয়ে গেল হেন্তালি, এবং সময়ের স্রোত পেরিয়ে আধুনিক নাম হয়ে গেল এন্টালি।
লেবুতলাতেই নেবুতলা
ভুবন পাল নামক এক ব্যক্তি অধুনা লেবুতলা এলাকায় একটি বাজার বসান যা ভুবনপালের বাজার বা ন্যাড়া গির্জার বাজার নাম পরিচিত হয়। এই এলাকায় প্রচুর পরিমানে লেবুগাছ থাকায় এটি নেবুতলার বাজার নামে পরিচিত।
সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার
দুর্গাপুজোর প্যান্ডাল হপিংয়ের লিস্ট বানাব আর সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার এর নাম থাকবে না, তা হয় নাকি? সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার এর প্রাচীন নাম ছিল “হুজুরিমল ট্যাঙ্ক” , কোনো এক পাঞ্জাবি ব্যবসায়ী নাকি এখানে ৫৫ বিঘার ওপর একটি পুকুর খনন করেন, সেই থেকে লোকমুখে এই এলাকা হুজুরিমল ট্যাঙ্ক নামে পরিচিত ছিল।তারপর সেই হুজুরিমলের পুকুর বুজিয়ে তৈরী হল বাগান। পুকুর ভরাট করার পর এই এলাকার নাম হয়ে যায় কেরানিবাগান কারণ এই বাগানে বাস করতেন পর্তুগীজ কেরানিরা। পরে এই কেরানিবাগানই নেবুতলা বলে পরিচিত হয়। বর্তমানে শহীদ সন্তোষ মিত্রর নামে এর নতুন নাম রাখা হয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার।
চূড়াভাঙা ন্যাড়া গির্জা
একদা সেন্ট জেমস স্কোয়ার এই ছিল সেন্ট জেমস গীর্জা। শোনা যায় এই চুড়াটি নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয় নি অথবা বাজ পড়ে চূড়াটি ভেঙে যায়, তাই লোকে এই গির্জাটিকে ন্যাড়া গির্জা নাম দেয়। এই গির্জার পার্শ্ববর্তী মাঠ ন্যাড়া গির্জার মাঠ নামেই পরিচিত ছিল। পরে যদিও এই গির্জাটি লোয়ার সার্কুলার রোডে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। লেবুতলার বাজারকে প্রবীণরা অনেকেই ন্যাড়া গির্জার বাজার নামে চেনেন।
উল্টোডিঙিই উল্টোডাঙ্গা
উল্টোডাঙা আদতে উল্টোডিঙি। অধুনা শহর কলকাতার এই বিখ্যাত বাসস্ট্যান্ড ও সদা ব্যস্ত স্টেশন রোডে একসময় নৌকা বা ডিঙি উল্টো করে রেখে আলকাতরার প্রলেপ দেয়া হত।
সেই উল্টানো ডিঙার অপভ্রংশ হয়েই আজকের উল্টোডাঙা। বিদ্যাধরী খালে প্রায় বহুদিন পর্যন্ত বড়ো নৌকা চলাচল করতে দেখা যেত। পরে এই খাল মজে হয়ে যায় বালির মাঠ। লোকজন যাতে এপার ওপার করতে পারে তাই এইখানে ডিঙি উল্টে রাখার একটা রেওয়াজ ছিল।
মালঙ্গীদের মলঙ্গা লেন
নুনের ব্যবসায়ী “মালঙ্গী” দের নাম অনুসারেই এই অঞ্চলের নাম হয় মলঙ্গা, এখানে একদা নুন তৈরির কারখানা ও তা মজুদকরার জন্য গোলা ছিল।
রুস্তামজীর পার্শীবাগান
পার্শীবাগানে এককালে ছিল পার্শী রুস্তমজী কাওয়াসজীর বাগান বাড়ি, সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে কেন আজ ওই অঞ্চলের নাম পার্শিবাগান।
বারবণিতাদের সোনাগাছি
কলকাতার এই নিষিদ্ধপল্লীতে আদিমরিপুর হাতছানি দেয় রাতের রজনীগন্ধারা। কলকাতার যে অঞ্চল নিয়ে এখনকার ভদ্রসমাজ নাক সিঁটকায় সেই বারবণিতাদের সোনাগাছিই একসময় জমজমাট ছিল বাবুদের আনাগোনাতে, ছিল সূরাপাত্র ও বেল ফুলের সুবাসে সুরভিত নাচ গানের আসর। সেইসব বিলাসী বাবুর বিবিদের ঠিকানা সোনাগাছির নামকরণ নিয়ে দ্বিমত আছে। অনেকে বলেন এর নামকরণ হয়েছে সোনাউল্লাহ গাজী নামের এক পীরবাবার নামানুসারে। কলকাতায় বিডন স্ট্রীটের কাছে রূপোগাছি নাম আরেক নিষিদ্ধপল্লীর কথাও অনেকে বলেছেন, যেখানে তুলনায় কম আয়ের মানুষ ও নিম্নবর্গীয়রা যেতেন। খদ্দেরদের আর্থিক বৈষম্যের কথা মাথায় রেখেই দুই জায়গার নাম রাখা হয়েছিল সোনাগাছি আর রূপোগাছি।
শুনতে পেলাম পোস্তা ঘাটে
হুগলি নদীর পোস্তা ঘাটের নামানুসারে পোস্তা অঞ্চলের নামকরণ করা হয় । ব্যস্ততম এই অঞ্চলটি তখনও বাঙালি ব্যবসায়ী ও ব্যাংকারদের বসতি ছিল। এই বিত্তশালী ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন লক্ষ্মীকান্ত ধর বা নুকু ধর। নুকু ধরের একমাত্র কন্যার সন্তান সুখময় রায় তাঁর দাদামশায়ের সমস্ত সম্পত্তির অধিকারী হয়েছিলেন। ইংরেজ সরকার বাহাদুরের কাছ থেকে রাজা উপাধি পেয়ে এই সুখময় রায়ই পোস্তা রাজবাড়ি স্থাপন করেন।
বরাহের উৎপাত বড় বরানগরে
বরাহনগর চারিদিকে ছিল ভীষণ শূকরের উৎপাত, সেই বরাহদের থেকেই বরাহনগর নাম। কলিকাতা সেকালের ও একালে হরিসাধন মুখোপাধ্যায় লিখেছেন স্ট্রেনসাম মাস্টার সাহেব যখন ১৬৭৬ সালে বরাহনগরে আসেন তখন সেখানে ডাচদের একটি শুকরের মাংস জারণের কারখানা ছিল। বরাহনগর নামকরণের এটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে ।
খিদিরপুরের খিঞ্জির
সুকুমার সেন এর বিখ্যাত বই ‘বাংলার স্থাননাম’ থেকে জানা যায় আরবি ভাষায় ‘খিঞ্জির’ বা শুয়োরের উপদ্রব থেকেই গঙ্গাতীরবর্তী অধুনা খিদিরপুর নাম হয়েছিল ‘খিঞ্জিরপুর’। তারপর লোকমুখে অপভ্রংশ হয়ে এই ‘খিঞ্জিরপুর’ হয়ে যায় খিদিরপুর। তবে, অনেকেই মনে করেন খিদিরপুরের নাম এসেছে কিডারপুর থেকে। শিবপুর বোটানিকাল গার্ডেনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট কিডের ছেলে জেমস কিডের ১৮০৭ সালে এই অঞ্চলে একটি ডক প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকেই এই অঞ্চলটি পরিচিত হয় কিডারপুর নামে। সেই থেকেই তা লোকমুখে খিদিরপুর নামে পরিচিত হয়। আবার কলকাতাবিদ অসিত দাসের মতে এই এলাকায় এককালে ছিল খয়ের বা ‘খদির’ ব্যবসা, সেখান থেকেও হতে পারে খিদিরপুর নামকরণ। আবার অনেকে বলেন দরিয়ার পীর ‘খাজা খিজির বা উচ্চারণ-ভেদে খাজা খিদ্র থেকেই খিদিরপুর নামের উৎপত্তি।
ধর্মতলার ধর্মঠাকুর
কলকাতা শহরের আরেক ব্যস্ততম জায়গা ধর্মতলা একদা ছিল বন জঙ্গলে ভরা। পুরোনো কলকাতার ধর্মতলা এখনকার মত এতো ঘিঞ্জি ছিলোনা বরং ইংরেজদের কল্যানে সে জঙ্গল এলাকা ধীরে ধীরে সাজানো গোছানো হয়ে ওঠে। পার্শবর্তী জানবাজার এলাকায় ছিল বাউরি বাগদি হাড়ি ডোম প্রভৃতি তৎকালীন নিম্নবর্গের মানুষের বাস। এই সমস্ত মানুষদের উপাস্য ছিলেন তেল সিঁদুরে রঞ্জিত পাথুরে অবয়বধারী ধর্মঠাকুর এবং এখানে ছিল ধর্ম ঠাকুরের মন্দির। পন্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও বিনয় ঘোষ উভয়েই এই মন্দিরের কথা উল্লেখ করেছিলেন। এখানে ধর্মঠাকুরের পুজো উপলক্ষে একজমজমাট উৎসব হত, গাজন ও মেলা বসত। রাঢ় অঞ্চলের দেবতা ধর্মঠাকুরের নাম থেকেই নাকি ধর্মতলা নামের উৎপত্তি।
আবার রেভারেন্ড জেমস লং এর মতে এখানে টিপু সুলতান মসজিদের পাশের আস্তাবলের জমিতে একটি মসজিদের অস্তিত্ব ছিল এবং এখানে ধর্মীয় সমাবেশ হত। হর্নেল সাহেবের মতে জানবাজার এলাকায় বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত মানুষদের বাস ছিল, তারাও ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতেন। ভিন্ন ধর্মের দিক নির্দেশ করে ভিন্ন মতবাদ থাকলেও ধর্মতলার নামকরণ আসলে ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকেই এসেছে।
মনোরম এসপ্ল্যানেড
ইংরেজি ভাষায় এস্প্লানেডের অর্থ জলাশয় বা নদী তীরবর্তী ভ্রমণের সমতল ভূমি। ধর্মতলা থেকে হুগলি নদীর তীরবর্তী চাঁদপাল ঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাটি এসপ্ল্যানেড নামে পরিচিত ছিল। ওয়ারেন হেস্টিংস এর সময়ে এটি সাহেবদের প্রমোদভ্রমণের জন্য প্রিয় জায়গা হয়ে উঠেছিল, কারণ এই এলাকাটি ছিল মনোরম হওয়াবাতাসযুক্ত । পলাশী যুদ্ধের পর গোবিন্দপুর অঞ্চলে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণের কাজ শুরু হলে এখানকার ভারতীয় অধিবাসীদের সুতানুটিতে সরিয়ে দেয়া হয়। এসপ্ল্যানেড ও চৌরঙ্গী এলাকায় শ্বেতাঙ্গদের বসতি বিস্তৃত হয় তাই একে হোয়াইট টাউন নামে ডাকা হত আর সুতানুটিকে নাম দেয়া হয় ব্ল্যাক টাউন।
পার্কস্ট্রীটের ডিয়ার পার্ক
সময়টা তখন সতেরোশো শতকের মাঝামাঝি, আজকের আধুনিকতায় মোড়া গ্ল্যামারাস পার্কস্ট্রিট তখন নরঘাতী চোর ডাকাত আর মানুষখেকো বাঘের আড্ডা। তৎকালীন বাংলার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারক এলিজা ইম্পে তখন থাকতেন মিডলটন রায়ের এক সুবিশাল বাড়িতে। তার বাড়ির সীমানা বেষ্টন করে ছিল এক সুবৃহৎ পার্ক , সেই পার্কের শোভা বৃদ্ধি করত হরিণের দল। ইম্পের আমলে পার্কটি রাসেল স্ট্রিট থেকে ক্যামাক স্ট্রিট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এই ডিয়ার পার্ক থেকেই পার্কস্ট্রিট নামকরণ, যদিও পার্কস্ট্রীটের আদি নাম ছিল বারিয়াল গ্রাউন্ড রোড। কারণ এই এলাকায় বহু প্রাচীন একটি কবরখানা ছিল এবং এখনও তা বর্তমান।
ফ্রি স্কুল স্ট্রিট
হগ সাহেবের নামে বিখ্যাত মার্কেটের পিছনের এই এলাকাতে একসময় বাঁশের জঙ্গল ছিল। পার্ক স্ট্রিট থেকে হগ মার্কেট পর্যন্ত বিস্তৃত রাস্তাটির অধুনা নামকরণ হয়েছে ফ্রি স্কুল স্ট্রিট কারণ এখানে ইংরেজরা আনুমানিক ১৭৮৯ সালে ইংরেজ পুরুষ ও মহিলাদের জন্য একটি অবৈতনিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
গৌড়ীয় গড়িয়া
গড়িয়া আদিগঙ্গার তীরে অবস্থিত, কলকাতা শহরের দক্ষিণ শহরতলী। গড়িয়া অত্যন্ত প্রাচীন জনপদ। গড়িয়া নামকরণের সবথেকে জনপ্রিয় মতটি হল, এটি এককালে গৌড়ীয় সম্প্রদায়ের আবাসভূমি ছিল।শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর নীলাচল এর উদ্দেশ্যে আদিগঙ্গার মধ্য দিয়ে যাত্রাকালীন গড়িয়ার কাছে থেমেছিলেন, তারপর থেকেই এই অঞ্চলে বৈষ্ণবরা থাকতে শুরু করে। গড়িয়ার আশেপাশের বৈষ্ণবঘাটা ও কামডহরির নামকরণ এই একই ইতিহাসের সূত্রে আবদ্ধ।
ম্যানগ্রোভ গোত্রীয় গুড়িয়া গাছের আধিক্য থাকার ফলেও এই অঞ্চলটির নাম গড়িয়া হতে পারে বলে অনেকের ধারণা। প্রাচীনকালে সুন্দরবন অঞ্চল কলকাতার শিয়ালদহ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তাই এই মতটি একেবারে অস্বীকার করা যায় না। আরেকটি মত অনুসারে, গৌড়ের ধর্মান্তরিত মুসলমান গোষ্ঠী, গৌড়িয়াদের বসবাসের অঞ্চল ছিল এই এলাকায় এবং সেই থেকেই নাম গড়িয়া। তবে এই মতটি সর্বজনবিদিত নয়।
কলকাতা মহানগরীর ইতিহাস এক মহাসমুদ্র আর এই স্বল্প পরিসরে উল্লেখ করা গল্পগুলি তো সামান্য কয়েকটি ঢেউ মাত্র। পুরোনো কলকাতার প্রতিটি গল্প এতই আকর্ষক যে শুনতে শুনতে বিভোর হয়ে যেতে হয়। কল্পনার চোখে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে নকশাদার স্তম্ভের গ্যাসবাতির আলোয় ঝলমল করা জুড়ি, তেঘুড়ি, চৌঘুড়ি কিমবা ফিটন শোভিত রাস্তায়। ব্রিটিশ শাসিত ভারতের একসময়ের রাজধানী কলিকাতার গৌরব ও গরিমা সত্যিই অতুলনীয়। ব্যবস্যা বাণিজ্যে প্রসিদ্ধ কোম্পানির খাসতালুককে ইংরেজরা মনের মত করে সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়েছিলেন। কিছু স্মৃতি হারিয়ে গেছে কালের গর্ভে, কিছু পথঘাট আজ মুছে ফেলেছে তার পুরোনো নাম, আর কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন ও ঐতিহ্যের স্মৃতি বুকে নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে আমাদের সকলের প্রিয় আধুনিকা তিলোত্তমা কলকাতা।
কপিরাইট: পল্লবী পাল
(মাধুকরী পত্রিকায় প্রকাশিত, ২০২০)
তথ্যসূত্র:
কলিকাতার পথঘাট
কলিকাতার একাল ও সেকাল

